অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিপক্ষে খেলা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং সেটা ভালো করেই জানে বাংলাদেশ। তবে মাঠে নামার আগে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার বিশ্বাস, নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী ক্রিকেট খেললে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকেও চমকে দিতে পারে বাংলাদেশ।
ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে শুক্রবার শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ১১ ও ১৪ অক্টোবর একই মাঠে হবে পরের দুই ম্যাচ। সিরিজটি আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।
বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশামতো ফল না পাওয়ার পর এবার আরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।
নিগার সুলতানা বলেছেন, ‘বর্তমানের দিকে মনোযোগ দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই পুরো দল হিসেবে খেলতে। আমরা বিশ্বাস করি, যখন দল হিসেবে খেলি এবং সবাই একসঙ্গে পারফর্ম করি, তখন যেকোনো দলকেই চমকে দিতে পারি।’
অস্ট্রেলিয়া বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপে যাত্রা শুরু করেছে তারা। একই সঙ্গে এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
এমন দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়া যে চ্যালেঞ্জিং সেটা আলাদাকরে না বললেও চলে। তাছাড়া কন্ডিশনের বিপক্ষেও লড়তে হবে বাংলাদেশ দলকে। অস্ট্রেলিয়ার মতো গতিময় পিচে সচরাচর খেলে অভ্যাস্ত নয় বাংলাদেশ। তবে সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ ও একাধিক অনুশীলন সেশন করেছে বাংলাদেশ। সেসবে আস্থা রাখছেন জ্যোতি।
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘এখানকার কন্ডিশন আমাদের থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। তাই আমরা সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি অনুশীলন সেশন করেছি এবং এখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি। এতে উইকেট সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মানসিকতার ওপর নির্ভর করবে—আমরা কীভাবে ম্যাচটি খেলতে চাই। আমরা এটির জন্য সত্যিই মুখিয়ে আছি।’
টানা টি-টোয়েন্টি খেলার অনেকদিন পর ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদে দল। নিগার সুলাতানা বললেন, এই ফরম্যাটটা বরাবরই ভালো খেলে বাংলাদেশ। সেটাও আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে।
‘এটাই এমন একটি ফরম্যাট, যেখানে আমরা খুব ভালো খেলি। দেশের মাটিতে হোক কিংবা দেশের বাইরে, এই ফরম্যাটে আমাদের সামর্থ্য আছে। আমাদের দলে এই ফরম্যাটে ভালো খেলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছে। তাই আমরা মাঝের সময়টায় নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে চাই। বিষয়টি আসলে মানসিকতার ওপর নির্ভর করছে। আমরা এখানে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই।’- বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।






