দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যুক্ত হলো নতুন এক প্রতীকী আয়োজন। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২০২৬-২৭ মৌসুম সামনে রেখে আট বিভাগীয় দলের অধিনায়কের মাথায় তুলে দেওয়া হয়েছে ব্যাগি ক্যাপ। সাবেক ক্রিকেটারদের হাত দিয়ে অধিনায়কদের এই ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়।
ব্যাগি ক্যাপ টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাই দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এমন উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন ক্রিকেটাররা। খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন মনে করেন, ক্যাপের রংয়ের চেয়ে এর সঙ্গে দলের পরিচয় ও আবেগ তৈরি করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যাপ পেয়ে খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন বলছিলেন, ‘আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলিই তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রভাব রাখার জন্য। টেস্টের কারণেই যেহেতু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলাটা আসছে, ব্যাগি ক্যাপটা তো আপনারা জানেন টেস্টের একটা প্রতীক। এখানে রঙটা ম্যাটার করে না। আমরা যে রঙই পেয়েছি সেটাকেই আমরা ওউন করব। অন্তত আমরা জানতে পারলাম আমাদের একটা রঙ আছে। এটাকে ওউন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
এতোদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট উন্নয়নের কথা শুধু মুখই বলা হলেও এখন কাজে দেখা যাচ্ছে বলেছেন মিঠুন, ‘যে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যত ভালো সেই দেশের টেস্ট ক্রিকেট ততো ভালো। এটা শুধু মুখে মুখেই এতদিন হয়েছে, সেটার মানদন্ড যেরকম হওয়া উচিত সেটা কখনোই হয়নি। কিন্তু এবার হচ্ছে এজন্য খেলোয়াড়রা সবাই খুশি।’
সিলেটের অধিনায়ক জাকির হাসানের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ক্যাপ। জাকির বলেন, ‘এই ক্যাপের কতটা মূল্য আছে, একটা প্রাইড আছে। প্রত্যেকটা ডিভিশন একটা প্রাইডের ব্যাপার। অ্যাট দ্য সেম টাইম এই প্রাইডের সঙ্গে যখন সে ন্যাশনাল টিমে আসবে, ন্যাশনাল টিমের ব্যাগি ক্যাপটা পাবে, তার ফিলিংসটা অন্যরকম হবে যে সে একটা হাইয়েস্ট লেভেলের জায়গা অ্যাচিভ করেছে। তো এই কালচারটা আমার কাছে মনে হচ্ছে খুব ভালো।’
রাজশাহীর অধিনায়ক প্রীতম কুমরা বলেন, ‘এই যে উদ্যোগটা নিয়েছে বিসিবি, সবার কাছেই অন্যরকম একটা অনুভূতি পাবে। কারণ এটা ব্যাগি ক্যাপ, এটা সবাই সবসময় পায় না। হয়তো ফার্স্ট টাইম বাংলাদেশে এরকম একটা জিনিস চালু হয়েছে। তো এটার জন্য অনেক প্লেয়ার এখন মুখিয়ে বসে থাকবে যে আমি কখন ফার্স্ট ক্লাস ডেব্যু করবো। যেমন ন্যাশনাল টিমে হয়।’
২০২৬-২৭ মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে আগামী ৩ অক্টোবর। প্রথম ধাপে দেশের চার ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে আট বিভাগীয় দল।
উদ্বোধনী রাউন্ডে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের বিপক্ষে খেলবে ঢাকা। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খুলনা ও বরিশাল, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেট ও ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী লড়াই করবে।
প্রায় দুই মাসের এই প্রতিযোগিতায় মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে মোট চারটি ম্যাচ। শেষ রাউন্ডের ম্যাচ দিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর পর্দা নামবে এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগের।
