নাগোয়া এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত হকি দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন দেশের অভিজ্ঞ তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি। তার সঙ্গে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে খেলবেন তার ছোট ভাই খালেদ মাহমুদ রাকিন। দুই ভাইয়ের একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলার অপেক্ষা এবার বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়ার দুই ছেলে জিমি ও রাকিন দীর্ঘদিন ধরেই হকির সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন ক্লাব ও দলের হয়ে একসঙ্গে খেললেও জাতীয় দলের জার্সিতে এতদিন একসঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তাদের। চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়ার পর দুই ভাইয়ের আক্ষেপও একই—এই মুহূর্তটি দেখার জন্য বাবা বেঁচে থাকলে আরও ভালো লাগত।
গত এক বছর জাতীয় দলের ট্রায়ালেও ডাক পাননি জিমি। ফেডারেশনের কমিটি পরিবর্তনের পর আবার দলে ফেরেন বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার। একাধিক ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত দলেও জায়গা করে নিলেন তিনি।
জিমির জন্য এবারের এশিয়ান গেমস বিশেষ। ২০১৪ সালের আসরে খেলতে না পারায় নাগোয়া আসরে খেললে এটি হবে তার ষষ্ঠ এশিয়ান গেমস। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের পাশাপাশি দলের জন্য সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
জিমি বলেন, ‘আমরা যদি ছয়ের মধ্যে থাকতে পারি, তাহলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার সুযোগ পাওয়া যাবে। অলিম্পিক-বিশ্বকাপ বাছাইসহ অনেক কিছুই নির্ভর করছে এই গেমসের ওপর। এছাড়াও আমরা প্রীতি ম্যাচ কারো সঙ্গে খেলতে চাইলে তারাও এই গেমসের ফলাফল বিবেচনা করেই সম্মত বা প্রত্যাখ্যান করবে। আমাদের দল ভালোই, বিদেশি ক্লাব ও দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে পারলে আরও ভালো হবে প্রস্তুতি।’
জিমির ছোট ভাই খালেদ মাহমুদ রাকিন বেশ উচ্ছ্বসিত কারণ প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেলেন, সেটাও বড় ভাইয়ের সাথে। রকিন বলেন, ‘ভাইয়ের খেলা দেখেই বড় হয়েছি। ভাই সবসময় পরামর্শ দেন। দেশের জন্য খেলতে পারা বড় সৌভাগ্যের। ভাইয়ের সঙ্গে এক সঙ্গে খেলব এটা বাড়তি অনুপ্রেরণা।’
এদিকে হেড কোচ গেরহার্ড পিটার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমি কোনো নাম বা ক্লাব দেখে খেলোয়াড় বাছাই করি না। দলের প্রয়োজন ও যোগ্যতা অনুযায়ীই নিয়েছি। সেন্টার মিডফিল্ডে আমার কাছে সাজু ও রোমান আছে। সে (রাব্বি) তাদের চেয়ে এগিয়ে নয় এবং রাইট হাফ ও ইনারে রয়েছে সোহান এবং বাবু। তাদেরকে সে পেছনে ফেলতে পারেনি।’
জিমির দলে ডাক পাওয়া নিয়ে জার্মান এই কোচ বলেছেন, ‘জিমি এখনও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাকে আমি মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড দলের প্রয়োজনে যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করতে পারি। সে দারুণ টিমমেট। সবকিছু মিলিয়ে এখনও সে দুর্দান্ত।’
বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের দল: বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক সাদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. হোজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম বাবু, মো. রোমান সরকার, মো. শাহিদুর রহমান সাজু, মো. ওবায়দুল হোসেন জয়, মো. দ্বীন ইসলাম ইমন, মো. খালেদ মাহমুদ রাকিন, পুষ্কর ক্ষিসা মিমো, সোহানুর রহমান সবুজ, ফরহাদ আহমেদ শিতুল, মাহবুব হোসেন, মো. মাইনুল ইসলাম, রাসেল মাহমুদ জিমি ও মো. রাকিবুল হাসান।
স্ট্যান্ডবাই: এম এম মেহরাব হাসান সামিন, মো. আবেদ উদ্দিন ও নুরুজ্জামান নয়ন।
