দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যস্ততায় সময় পার করছেন সরকারের টেকনোক্র্যাট যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় মিটিং করছেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও ব্যস্ততায় সময় পার করছেন। এরই ফাঁকে রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন আমিনুল।
সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে ক্রীড়া বিষয়ক নানান পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি আগামী ৫ বছর নিজের এবং সরকারের ক্রীড়াক্ষেত্রে যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেসবও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। একজন মাঠের মানুষ থেকে রাজনীতিবিদ, পরে মন্ত্রীর আসনে বসেন আমিনুল। মাঠের মানুষকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পেয়ে দারুণ খুশি খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক, কর্মকর্তারা। বিশেষ করে খেলোয়াড়রা যারপরনাই আনন্দিত। সবার প্রত্যাশা এবার নতুন কিছু ঘটবে ক্রীড়াঙ্গনে, যা গত ৫৫ বছরে ঘটেনি। আমিনুলই স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ‘ক্রীড়াবিদরা ভালো থাকলে আমাদের স্পোর্টস ভালো থাকবে।’
ক্রীড়া বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয়ভাবে তো রয়েছেই, সরকারের পক্ষ থেকেও। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভিশন। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ, প্রত্যাশাও অনেক। সবই জানা আমিনুলের। তাই তো প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন একে একে সব বাস্তবায়িত হবে। এগিয়ে যাবে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র। একেবারে তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করতে চান আমিনুল। শুরুটা উপজেলা, জেলা হয়ে জাতীয় পর্যায়ে, অবকাঠামোর চেয়ে মাঠে খেলা রাখায় বেশি নজর থাকবে নতুন মন্ত্রীর- এমন ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন রোববারের মতবিনিময় সভায়।
এ ব্যাপারে আমিনুল বলেন, ‘রুট লেভেল পর্যন্ত খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের উপজেলা, জেলা পর্যায়ে কীভাবে খেলাধুলাকে নিয়মিত রাখতে পারি, কীভাবে আমাদের উপজেলা কিংবা জেলা পর্যায়ে খেলাধুলাগুলো যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেই খেলাগুলোকে কীভাবে আমরা জবাবদিহিতার ভেতরে আনতে পারি এবং আমাদের বার্ষিক একটি ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে আমরা এই খেলাধুলাকে সারা বছর প্রতিনিয়ত আমাদের মৌসুমি বা সিজনাল যে বিষয়গুলো রয়েছে গ্রীষ্মকালীন বা শীতকালীন সেভাবে আমরা আমাদের ক্যালেন্ডারগুলোকে সাজানোর মাধ্যমে আমরা খেলাধুলাকে সারা বছর প্রতিনিয়ত খেলার মাঠে রাখতে চাই।’
তৃণমূলের পাশাপাশি স্কুল পর্যায়েও কাজ করার ঘোষণা এসেছে আমিনুল হকের কাছ থেকে। দেশে খেলার মাঠের সংকটের কথা কারোর অজানা নয়। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যতটুকু খেলার সময় পায়, এরপর ঘরে ফেরার পর এক প্রকার বন্দি হয়ে থাকতে হয়। এ সংকট দূর করতে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুলের মাঠগুলো যাতে খোলা থাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন আমিনুল। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করারও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। খেলোয়াড়দের বেতনের আওতায় আনারও ঘোষণা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমিনুল বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, আমাদের খেলাধুলাকে আমরা পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং সে বিষয় নিয়েও আমরা বিশদভাবে আলোচনা করছি যে, কোন ক্রাইটেরিয়ায় কীভাবে আমরা সেটাকে প্রত্যেকটি খেলোয়াড়দের একটি বেতন কাঠামোর ভেতরে নিয়ে এসে আমরা সেটাকে নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি আগামীতে বাংলাদেশে আমরা জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম চতুর্থ শ্রেণি থেকে আমরা আমাদের খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চাই। বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমরা সেটা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।’
খেলোয়াড় তৈরির কারিগর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। প্রতিষ্ঠানটির কাজের গতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাবেক খেলোয়াড়দের এবং খেলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্রীড়া অফিসারসহ বিভিন্ন পদে চাকরির ব্যবস্থা করে তাদের মাধ্যমে খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান আমিনুল। সেসব খেলায় বিশেষ করে ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে সাফল্যের হার বেশি সেই খেলাগুলোকে আরও বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে সেগুলোর উন্নয়নে কাজের পরিকল্পনা রয়েছে ক্রীড়ার অভিভাবকের। এ ব্যাপারে আমিনুল বলেন, ‘ফুটবল, ক্রিকেট, হকি থেকে শুরু করে ইনডিভিজুয়াল যে খেলাগুলো রয়েছে সে খেলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা সাফ গেমস কিংবা এশিয়ান গেমস কিংবা ভবিষ্যতে অলিম্পিকে ভালো কিছু করার যে পরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে, সেই স্বপ্নগুলো যাতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, সেই শুরুটা আমরা করতে চাই।’
দীর্ঘদিনের অবহেলিত ক্রীড়াঙ্গন রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এর পরিবর্তনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ ব্যাপারে আমিনুল বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যখন রাজনীতির মাঠে ছিলাম, মাঝেমধ্যে আপনাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে কথা হয়েছে তখনও বলেছি। আজকেও (গতকাল) আমি এই দায়িত্বশীল জায়গায় বসে একই কথা বলতে চাই যে যেখানে আমাদের সমস্যাগুলো রয়েছে, সেই সমস্যাগুলো কীভাবে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে, ন্যায় এবং সততার মাধ্যমে যাতে আমরা সেই কাজগুলো প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। এ ছাড়া যে ক্রীড়ানীতি রয়েছে সেই মোতাবেক কাজ করারও ঘোষণা দিয়েছেন আমিনুল হক।’







