খেলাধুলা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

খেলাধুলা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা: দেশের খেলাধুলা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এছাড়া সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়াই দেশের মানুষকে বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগের সুযোগ করে দেওয়ায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিটিভির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বিটিভি, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতার আওতায় আনা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জন খেলোয়াড়, কোচ, প্রশিক্ষক ও রেফারিকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক ও পেশাদার পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভিভাবকদের মধ্যে এমন মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে সন্তানরা শুধু চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নই না দেখে; বরং ফুটবলার, ক্রিকেটার, সাঁতারু, কাবাডি খেলোয়াড়, দাবাড়ু কিংবা অন্যান্য ক্রীড়াবিদ হওয়ার লক্ষ্যও স্থির করতে পারে।

তিনি জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা চলছে। আগামীকাল (২৭ জুলাই) আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

আমিনুল হক বলেন, আগামী আসরের জন্য ইতোমধ্যে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সরকারি ব্যয়ে বিকেএসপিতে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অলিম্পিকসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য তাদের গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, এশিয়ান গেমসের পর আর্চারি, শুটিং, সাঁতার, বক্সিংসহ সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ভালো ফল অর্জন করতে পারে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে মাঠ নির্মাণ এবং বিদ্যমান মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে খালি জায়গা থাকবে সেখানে স্থাপনা নয়, বরং খেলার উপযোগী মাঠ তৈরিতে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

শেষে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ভারপ্রাপ্ত তথ্য সচিব মো. শাহ আলম ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

OR

Scroll to Top