হুমায়ূন আহমেদের শুধু গল্প বা উপন্যাস নিখে যাননি, জীবনের আনন্দ কীভাবে উপভোগ করতে হয় সেটাও শিখিয়ে গেছেন। তাঁর লেখার ভাষা ছিল খুব সহজ, তাঁর প্রতিটা গল্প, উপন্যাসের চরিত্র গুলো মনে হতো আমাদের আশে পাশের মানুষ যেমন: হিমু, মিসির আলি, বেকার হাফিক, রূপা সবাই আমাদের আপন মনে হয়। তিনি শুধু গল্প, নাটক, উপন্যাস লিখেনি তাঁর খেলার প্রতি ছিলো অধির আগ্রহ। অভিনেতা ফারুক আহমেদ তার একটি বইয়ে উল্লেখ করেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের সাথে সুইজারল্যান্ড যায়, চ্যানেল আই এর “রুপালি রাত্রি“ শুটিংয়ের কাজে, নাটকের তাদের একটি দশ জনের দল ছিলো। হুমায়ূন আহমেদ, সাথে ছিলো মেহের আফরোজ শাওন; স্বাধীন খাসরু, ডা. এজাজুল ইসলাম, এস আই টুটুল, তানিয়া আহমেদ, চ্যালেঞ্জার ভাই, ক্যামেরাম্যান এবং আমি।
তাঁরা সুইঙ্গাল্যান্ডের সাফাউজান টাউনে ছিলেন । সে সময় জুন মাস চলছিলো। জুন মাসে সেখানে দিন বড়ো এবং রাত ছোট হয়। সন্ধ্যা হতো রাত সাড়ে নয়টায়। তাদের শুটিং চলতো সকাল নয়টা থেকে বিকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত। সাড়ে নয়টার পর রাত নামলে ঘন্টা খানেক শুটিং করে হুমায়ূন আহমেদ বলতেন রাতের শুটিং শেষ। তার পর সবাই মিলে শহর দেখতে বের হতাম।
একদিন সকাল বেলা নাস্তা করা শেষে হুমায়ূন ভাই বললেন, আজ আমরা শুটিং করবো না। হুমায়ূন ভাইকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কেন স্যার শুটিং করা হবে না? হুমায়ূন ভাই মৃদু হেসে বললেন আমরা সবাই বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখবো। তিনি সবাইকে বললেন, তোমরা সবাই-খুঁজে বের করো কোথায় বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখা যাবে।
সাফাউজান ছোটো একটি টাউন। এখানে কোথাও বাংলাদেশের খেলা দেখা সম্ভব না। শাহীন ভাই দীর্ঘদিন যাবত সাফাউজান টাউনে থাকেন। তিনি বললেন, স্যার ওখান থেকে দুইশ কিলোমিটার দূরে ‘জুরিখ’ শহর। সেখানে গেলে টেলিভিশনে খেলা দেখার ব্যবস্থাকরা যেতে পারে। হুমায়ূন ভাই বললেন, চল জুরিখ যাব। আমরা সবাই হইহই করে উঠলাম, জুরিখ যায জুরিখ যাব।
পনেরো মিনিটের মধ্যে আমরা সবাই রেডি হয়ে বের হলাম এবং দুই ঘন্টার জার্নির পরে জুরিখ পৌঁছালাম। শাহিন ভাই আমাদের সুন্দর একট খাবারের জায়গায় নিয়ে গেলেন।
তিনি হুমায়ূন ভাইকে বললেন, স্যার ভাগ্য ভালো হলে আমরা এখানে বাংলা দেশের বিশেষ খেলা দেখতে পারব। খাবার দোকানের দেয়ালে বড় একটি টেলিভিশন সেট করা সবাই সেখানে-ফুটবল খেলা দেখছে।
সুইজারল্যান্ডইউরোপের একটি দেশ। এখানে ফাকিলের কদর বেশি। হুমায়ূন ভাই শাহিন ভাইকে বললেন, যাও ক্রিকেট ফোলা দেখার ব্যবস্থা কর। দোকান মালিকের সাথে কথা বলে দেখার ব্যবস্থা করা হলো। বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের খেলা চলছিলো। যখন লাঞ্চ করতে করতে আমরা খেলা দেখছিলাম। বাংলাদেশ যখন ভালো খেলছিল তখন হুমায়ূন ভাইয়ের
চোখে কী আনন্দ ছিল। তাঁর উজ্জ্বল মুখের দিকে বারবার তাকিয়ে ছিলাম আমরা। যখন বাংলাদেশ হেরে গেল, তখন হুমায়ূন ভাইয়ের ভিষন মন খারাপ হলো। তিনি বিষণ্ণ মনে বললেন, চল যাই সাফাউজান টাউনে।
হুমায়ূন ভাইয়ের মন ভালো করার জন্য শাহিন ভাই বললেন, স্যার চলেন আপনাকে পৃথিবীর দামি রাস্তা দেখাব। তারপর সব থেকে দামি রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হলো। রাস্তার দুই পাশে ছিলো ডায়মন্ডের দোকান।এই ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। আপাদমস্তক খেলা পাগল এক মানুষ।
সম্পর্কিত






