চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে মারধর! – DesheBideshe

চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে মারধর! – DesheBideshe


চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে মারধর! – DesheBideshe

চট্টগ্রাম, ১৩ জুন – দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (DPL) ম্যাচ খেলে নিজের শহর চট্টগ্রামে ফেরার পথে জাতীয় দলের তারকা স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি (ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ) পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে ও পুলিশ কাস্টোডিতে বর্বর মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে ক্রিকেটার নাঈম হাসান, তার পরিবার এবং এলাকার শত শত মানুষ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে চট্টগ্রামের খুলশি থানায় অবস্থান নিয়ে থানা ঘেরাও করে রেখেছেন। এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

গতকাল শুক্রবার সাভারের বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলেন নাঈম। এরপর খেলা শেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি। চট্টগ্রাম শাহআমানত বিমানবন্দরে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নিজের বাসায় ফিরছিলেন এই ক্রিকেটার।

নাঈম হাসান নিজেই খুলশি থানা থেকে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিতে আসছিলাম। রাত ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশের একটি গাড়ি আমার সিএনজি থামায়। আমি সিএনজি থেকে নেমে সোজা হয়ে দাঁড়াই এবং বলি—আমার ব্যাগ চেক করেন। কিন্তু ওই পুলিশ সদস্য আমাকে বলে, ‘তুই গাড়িতে ওঠ, তুই আসামি।’ এরপর কিছু না শুনেই আমার গলা চিপে ধরে জোর করে গাড়িতে উঠায়। আমি বের হওয়ার চেষ্টা করলে দুইজন আমাকে চেপে ধরে, আর একজন পাইপ দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। গাড়িতে দুইজন পুলিশ আর একজন পাঞ্জাবি পরা লোক ছিল।”

নাঈম আরও জানান, মারধরের সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ১০০ মানুষ জড়ো হয়ে গিয়েছিল। উপস্থিত জনতা চিৎকার করে নাঈম যে জাতীয় দলের ক্রিকেটার—সেই পরিচয় দিলেও পুলিশ মারধর থামায়নি। নাঈম নিজে বারবার পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো কাজ হয়নি।

নাঈমের অভিযোগ, অপহরণ ও মারধরের পর তাকে যখন খুলশি থানায় নিয়ে আসা হয়, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) শুরুতে অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেন। নাঈমকে ধমক দিয়ে বলেন, “চোখ নামায় রাখ।” তবে কিছুক্ষণ পর ওসির ফোনে একটি ভিআইপি কল আসার পরেই ওসির সুর বদলে যায়। ওসি তখন নাঈমকে বসতে বলেন এবং অভিযুক্ত এসআই শফিকসহ বাকিদের দ্রুত সরিয়ে দেন।

থানায় এসে নিজের মোবাইল ফেরত পাওয়ার পর নাঈম সরাসরি ফোন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবালকে।

নাঈম বলেন, “থানায় আসার পর মোবাইল পেয়েই আমি তামিম ভাইকে কল দিছি। এরপর বিসিবি পরিচালক খসরু (ঈসরাফিল খসরু) ভাই আমাকে কল দিয়েছিলেন। ওনারা ওসির সঙ্গে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন। এরপর আমি হাসপাতালে গিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট এনেছি। বিসিবি থেকে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাবা মাহবুব আলম একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর। ছেলের ওপর এমন বর্বর পুলিশি নির্যাতনের খবর পেয়ে তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

থানায় অবস্থান নিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ও যখন আমাকে কল দিয়ে বলল যে ওকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, আমি আকাশ থেকে পড়লাম! জাতীয় দলের একজন সেলিব্রেটি খেলোয়াড়কে কেন পুলিশ এভাবে হ্যারাস করবে? অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের এখনই গ্রেফতার করতে হবে। এটা যতক্ষণ না হবে, আমরা কোনোভাবেই থানা ছেড়ে যাব না। দেশের বাকি ক্রিকেটাররা যদি এই ঘটনার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে, তবে আমরা তার দায় নেব না।”

জাতীয় দলের একজন নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের সাথে প্রকাশ্য রাস্তায় পুলিশের এমন আচরণ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের হস্তক্ষেপে এখন পুলিশ প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে কী অ্যাকশন নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

এনএন/ ১৩ জুন ২০২৬



OR

Scroll to Top