রিয়াল মাদ্রিদে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছালেও দ্রুত সিদ্ধান্ত জানতে চান রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন প্রধান নির্বাহী হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ ও প্রধান স্কাউট জুনি কালাফাত। বৈঠকে ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল তাদের আগের প্রস্তাব থেকে বেতন বাড়িয়ে মৌসুমপ্রতি ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (নিট) বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও এই অঙ্কটি ভিনিসিয়ুসের প্রাথমিক দাবি, অর্থাৎ মৌসুমে ৩ কোটি ইউরো নেট বেতনের চেয়ে কম।
এদিকে, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, ভিনিসিয়ুসও নিজের দাবিতে কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস যুক্ত করা হলে নির্ধারিত বেতনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে তিনি আগ্রহী।
শুধু বেতন নয়, নতুন চুক্তিতে নবায়ন বোনাস এবং ইমেজ রাইটসের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন ভিনিসিয়ুস। বর্তমানে ভিনিসিয়ুস ও রিয়াল মাদ্রিদ ইমেজ রাইটস থেকে অর্জিত আয়ের সমান অংশ পান। তবে নতুন চুক্তিতে সেই অনুপাত নিজের পক্ষে বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।
রিয়াল মাদ্রিদে ভিনির চুক্তির মেয়াদ আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। রিয়ালের লক্ষ্য, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো। সে কারণেই ক্লাব দ্রুত ভিনিসিয়ুসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চায়। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি নবায়ন না হলে ভবিষ্যতে তাঁকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে ভিনিসিয়ুসের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। ইউরোপীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে ভেড়াতে আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে লন্ডনের ক্লাবটির।
চলমান জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভিনিসিয়ুসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পদক্ষেপ। সম্প্রতি তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে আগের সব পোস্ট মুছে ফেলেছেন। যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি, তবু সমর্থকদের মধ্যে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
এখন সবকিছুই নির্ভর করছে ভিনিসিয়ুসের সিদ্ধান্তের ওপর। দুই পক্ষের অবস্থান আগের তুলনায় কাছাকাছি এলেও নতুন চুক্তি নাকি নতুন গন্তব্য—ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার কোন পথ বেছে নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।






