
ঢাকা, ০৩ ফেব্রুয়ারি – ক্রিকেটার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন অবশেষে সোমবার বিসিবিতে জমা পড়েছে। এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি, যা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কমিটি সোমবার প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে তুলে দেয়। প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত কমিটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল। শুরুতে কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। জাহানারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানোর জন্য বলা হয়েছিল, তবে তিনি তখন অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। এরপর তাকে বলা হয় ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ জমা দিতে।
জাহানারা লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর, ২২ ডিসেম্বর বিসিবি কমিটিকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তখন জানানো হয়েছিল, “ন্যায্য ও উপযুক্ত তদন্তের স্বার্থে আরও কজনের সঙ্গে কথা বলা ও তথ্য যাচাই করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে কমিটিকে।” অবশেষে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়।
গত মাসে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে জাহানারা অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের নিউ জিল্যান্ড বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া মঞ্জুর বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তা এবং প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
জাহানারা একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, যিনি একসময় ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবির আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন দেশের সফলতম নারী পেসার।
জাহানারার অভিযোগের পর আরও কয়েকজন ক্রিকেটার মুখ খুলতে শুরু করেন। এর পর বিসিবি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমকে। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
কমিটির গঠন নিয়ে নানা সমালোচনার পর সদস্য সংখ্যা দুজন বৃদ্ধি করা হয়। নতুন সদস্য হিসেবে যোগ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খানকে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নাইমা হক ছাড়া অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এনএন/ ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬







