ভেন্নার তেল ব্যবহারের আশ্চর্যজনক উপকারিতা

ভেন্নার তেল ব্যবহারের আশ্চর্যজনক উপকারিতা

ঢাকাপ্রতিদিন স্বাস্থ্য ডেস্ক : ক্যাস্টর অয়েল হচ্ছে ভেন্নার তেল। সাধারণত গ্রামে বেশ পরিচিত ভেন্না গাছ। এই গাছের বীজ থেকে পাওয়া তেলই হচ্ছে ক্যাস্টর অয়েল। এটি উদ্ভিজ তেল। প্রাচীন যুগ থেকে প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে ভেন্নার তেল। আধুনিক সময়ে এসেও বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও প্রসাধনী ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় এই তেল।

ক্যাস্টর বা ভেন্নার তেলের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। এটি খাওয়া থেকে শুরু করে শরীরে ব্যবহার করা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায়ও ব্যবহার হয় এই তেল। আবার আর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও ত্বকের জন্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় প্রধান উপাদান। এই তেল রিসিনোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ বিরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ব্যথা উপশমকারী বৈশিষ্ট্যযুক্ত। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ভেন্নার তেলের বিভিন্ন উপকারিতা তুলে ধরেছে। এবার তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায়: ভেন্নার তেল রেচক ওষুধ হিসেবে পেশী সংকোচন বৃদ্ধি করে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে মল ঠেলে দেয়। সাধারণত এটি খাওয়ার ছয় থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে মলত্যাগ শুরু হয় এবং নরম মল তৈরির চাপ কমাতে সহায়তা করে।

ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য: ভেন্নার তেলে ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপাদান রয়েছে। যা হিউমেক্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে। ত্বকের আর্দ্রতা আটকে রাখে এবং আর্দ্রতা হ্রাসের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টি করে। প্রসাধনী প্রস্তুককারক প্রতিষ্ঠান ভেন্নার তেলকে লোশন, লিপ বাম ও মেকআপে ইমোলিয়েন্ট হিসেবে যুক্ত করে। এর ময়েশ্চারাইজিং গুণাবলী এটিকে প্রসাধনী ও সাবানের উপাদান করে তুলে।

ত্বকের নিরাময়ে: ভেন্নার তেলের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং ক্ষত নিরাময়ের বৈশিষ্ট্য এর বিভিন্ন থেরাপিউটিক প্রয়োগে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভেন্নার তেল ব্রণের দাগ, সূক্ষ্মূ রেখা ও বলিরেখা কমাতে সহায়তা করতে পারে (যদিও এর কার্যকারিতা পরিপূর্ণভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন)। ভেন্নার তেল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ঘনত্বের জন্য বাদাম, নারকেল বা জোজো তেলের মতো ক্যারিয়ার তেল দিয়ে পাতলা করে তবেই ব্যবহার করতে পারেন। এই তেলে থাকা প্রদাহবিরোধী উপাদান আর্থ্রাাইটিসে আক্রান্তদের ব্যথা দূর করতে পারে।

দাঁতের চিকিৎসা : গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁতের যত্নে ভেন্নার তেল বেশ কার্যকরী। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য মুখের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, বিশেষ করে ক্যান্ডিডা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শতকার ১০ শতাংশ ভেন্নার তেলে দ্রবণে ২০ মিনিট ধরে দাঁত ভিজিয়ে রাখলে ক্ষতিকারক জীবাণু নির্মূল হয়।

প্রস্তাবিত ডোজ : ভেন্নার তেল ব্যবহার করে কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমের জন্য ১২ বছর বা এর বেশি বয়সীদের জন্য ১ থেকে ৪ টেবিল চামচ ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই পরিমাণ ব্যবহারের আগে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। এই তেল ব্যবহারে কোনো সমস্যা এড়িয়ে চলতে আগেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : ভেন্নার তেল নিরাপদ হলে উপকারের আশায় অতিরিক্ত ব্যবহারে পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, গলা শক্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্যক্তিবিশেষে আবার অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ঢাকাপ্রতিদিন/এআর

 

OR

Scroll to Top