মুরাসকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ফর্টিস

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের অভিষেকটা দারুণভাবেই করল বাংলাদেশের ক্লাব ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় কিরগিজ জায়ান্ট মুরাস ইউনাইটেডকে প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ম্যাচে ১-০ গোল হারিয়ে গ্রুপ পর্বে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশের দলটি। অসাধারণ ফিনিশে ফর্টিসকে স্মরণীয় জয় উপহার দেন ধারে আবাহনী থেকে খেলা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

আট বিদেশী নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন ফর্টিস কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার। ধারে-ভারে অনেকটাই এগিয়ে থাকা মুরাসকে রুখে দেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যে খেলতে নামা ফর্টিসের রক্ষণের মূল দায়িত্বে ছিলেন দুই জাপানিজ সিয়ান কাওয়াসাকি ও উসেই সিমোমুরা। রক্ষণ সামলে তারা কাউন্টার অ্যাটাকেও গেছে। দলটির গাম্বিয়ান অধিনায়ক পা ওমর বাবু একাধিকবার ভীতি ছড়িয়েছেন মুরাস রক্ষণে।

২২ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় বক্সের বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে মুরাস কিপারকে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে কস্তিককে পরাস্তও করেন। তবে বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে গেলে আফসোস বাড়ে ফর্টিসের। এর পরপরই ভালো জায়গায় বল পেয়েও এলোমেলো শটে সুযোগ নষ্ট করেন এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। আক্রমণভাগে তার সঙ্গী ছিলেন বসুন্ধরা কিংস থেকে আসা তরুণ ফরোয়ার্ড ইনসান।

প্রথমার্ধে আক্রমণ ও বল নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও গোলের তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মুরাস। বেলা তিনটায় শুরু হওয়া ম্যাচে গরম ভালোই নাকাল হয়েছে মধ্য এশিয়ার দলটি। গতবার আবাহনী আতিথ্যে ম্যাচটা তারা ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলেছিল সন্ধ্যায়। জিতেছিল ২-০ গোলে।

তাই ফর্টিস কৌশলে ম্যাচটা বেলা তিনটায় আয়োজন করে নিয়েছে হোম অ্যাডভান্টেজ।  কিরগিজসস্তানের ক্লাবটিতে বেশিরভাগ ফুটবলারই ইউক্রেনের। বৈরী আবহাওয়ায় সঙ্গে মানিয়ে ওঠার আগেই ম্যাচ খেলতে নেমে তারা স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারেননি।

বিরতি থেকে ফিরে স্বাগতিকদের ভালোই চাপে ফেলেছিল মুরাস। তবে তাদের দু’বার হতাশ করেন ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান কিপার সুজন পেরেরা। দু’টি গোলের চমৎকার চেষ্টা রুখে দেন তিনি।

৫২ মিনিটে ধারার বিপরীতে ইব্রাহিমের গোলে লিড নেয় ফর্টিস। পা ওমর বাবু অনেকটা এগিয়ে থ্রু বাড়ান ইব্রাহিমকে। ডান পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের গড়ানো শট নেন যা কিরগিজ কিপারের শরীরের নিচ দিয়ে পোস্টে জড়ায়।

এর চার মিনিট পর মুরাস কিপারের জোড়া সেভে ব্যবধান বড় করতে পারেনি ফর্টিস। পা ওমর বাবুর কর্নার কিক বাঁক খেয়ে পোস্টে জড়ানোর আগ মুহূর্তে গোললাইন সেভ করেন মুরাসের কিপার।  ফিরতি বল অনন্ত তামাংয়ের কাটব্যাকের ওপর এরিক বিসতার শট ডানদিকে ঝাপিয়ে আরেক দফা সেভ করেন কিপার কস্তিক।

ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্টের পর ফর্টিস লিডও হারাতে বসেছিল ৭৪ মিনিটে। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতর এরিক বিস্তার হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় মুরাস। সেখান থেকে মুরাসকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ নষ্ট করেন আতাবায়েভ এরবল। তার ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে এলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ফর্টিস।

বাকি সময় নিজেদের ঘর সুরক্ষিত রেখে ফর্টিস এফসিও নাম লেখায়  এই আসরের গ্রুপ পর্বে। গত বছর এই কীর্তি গড়েছিল বসুন্ধরা। ঘরের মাঠে সুযোগ ছিল আবাহনীরও। তবে মুরাসকে সেবার হারাতে পারেনি আকাশী-হলুদরা। সেই ম্যাচও খেলেছিলেন ইব্রাহিম। খেললেন এবারও। তবে নিজ দলকে জেতাতে না পারলেও ফর্টিসের জয়ের নায়ক বনে গেলেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।

OR

Scroll to Top