আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। আর সেই বিদায়টা সাধারণ কোনো ম্যাচের মতো হতে যাচ্ছে না, আর্জেন্টিনা মেসির বিদায়ে হাতে নিয়েছে নানান আয়োজন। ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সেই বিশেষ রাতের জন্য তার হাতে উঠেছে আলাদা নকশার জার্সি—চেনা আকাশি-সাদার সঙ্গে যেখানে যুক্ত হয়েছে সোনালি রঙের ছোঁয়া।
জার্সিটির প্রথম ঝলক মেসি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখিয়েছেন। ভিডিওতে পুরোনো আর্জেন্টিনা জার্সির জায়গায় নতুন জার্সি তুলে রাখার দৃশ্যের সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘শেষ ম্যাচ। আজীবনের জন্য একটি জার্সি।’ এরপর অ্যাডিডাস প্রকাশ করেছে স্মারক জার্সিটির বিস্তারিত নকশা।
নতুন জার্সিটির মূল রং অবশ্য বদলায়নি। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি ও সাদা রঙই রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ জার্সির চেয়ে এতে রয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী সংযোজন। কলার ও হাতার অংশে সোনালি ডিটেইল, আর পেছনে সোনালি রঙে লেখা থাকবে মেসির নাম এবং তার বিখ্যাত ১০ নম্বর।
সবচেয়ে নজরকাড়া প্রতীকগুলোর একটি ‘সান অব মে’। আর্জেন্টিনার জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সূর্যচিহ্ন জার্সির পেছনে বিশেষ নকশায় রাখা হয়েছে। মেসির নাম ও ১০ নম্বরকে ঘিরে সূর্যের রশ্মির নকশাও যুক্ত করা হয়েছে, যা পুরো জার্সিটিকে বিদায়ী স্মারকের রূপ দিয়েছে।
গত আগস্টে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এরপর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে ঘরের মাঠে আনুষ্ঠানিক বিদায় দেওয়ার জন্য বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি আয়োজন করে।
মেসির বিদায়ী ম্যাচটির গুরুত্ব বোঝা যাচ্ছে টিকিটের চাহিদাতেও। ২৪ সেপ্টেম্বর বিক্রি শুরুর পর দুই ঘণ্টারও কম সময়ে মনুমেন্তালের সব টিকিট শেষ হয়ে যায় বলে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রায় ৮৫ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে মেসিকে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে দেখতে সমর্থকরা টিকিট ক্রয়ে হুড়োহুড়ি লেগে যায়।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি জিতেছেন কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপসহ একাধিক বড় শিরোপা। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা ও কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জিতেন মেসি।
এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ খেলে মেসি গোল করেছেন ১২৫টি। নিজের শেষ ম্যাচে সেই গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও মেসি আর্জেন্টিনার স্মরণে থাকবেন অনন্তকাল।






