আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম টেস্ট খেলা নিজেই এক গৌরবময় অর্জন। কিন্তু সেই বিশেষ ম্যাচেই সেঞ্চুরি করা—এ যেন ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম উজ্জ্বল অক্ষরে খোদাই করার মতোই এক বিরল কীর্তি। ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন ব্যাটসম্যানই পেয়েছেন এই সম্মান। ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য এই অর্জন ক্রিকেটভক্তদের কাছে বিশেষভাবে আলোচিত।
ক্রিকেটের এই এলিট ক্লাবে সবচেয়ে আগে নাম লেখান ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে। ১৯৬৮ সালে অ্যাশেজের উত্তপ্ত লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের ১০০তম টেস্টে করেন স্মরণীয় ১০৪ রান। এরপর ধীরে ধীরে এই তালিকায় যুক্ত হয় আরও কিছু উজ্জ্বল নাম।
পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ তার ১০০তম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৪৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি গর্ডন গ্রিনিজ অপরাজিত ১৪৯ রানে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ইংলিশ ব্যাটার অ্যালেক স্টুয়ার্টও পিছিয়ে থাকেননি—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ১০৫ রানের ইনিংস আজও স্মরণীয়।
রানমেশিন ইনজামাম-উল-হক ১৮৪ রানের চোখধাঁধানো খেলায় তালিকাটি আরও সমৃদ্ধ করেন। তবে সবচেয়ে অনন্য কীর্তির মালিক অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং—একই ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি (১২০ ও ১৪৩*) করে যে রেকর্ড গড়েছেন, তা এখনও ছুঁতে পারেননি কেউ।
দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ (১৩১) এবং হাশিম আমলা (১৩৪) নিজেদের শততম টেস্ট স্মরণীয় করে রেখেছেন দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে। আর সাম্প্রতিক সময়ে এই তালিকায় যোগ হয়েছে ইংল্যান্ডের জো রুটের নাম। ভারতের বিপক্ষে তার ২১৮ রানের ইনিংস অভিজাত এই তালিকাকে নতুন মর্যাদা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারও করেছেন ২০০ রানের ঝলমলে ইনিংস।
এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের গর্ব—মুশফিকুর রহিম। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তার শততম টেস্টে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, যা তাকে নিয়ে গেছে বিশ্ব ক্রিকেটের বিরল এক পরিসরে।
এক শতক, এক ম্যাচ, এক ইতিহাস। শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের তালিকা যতই ছোট হোক, ক্রিকেটের গৌরবময় অধ্যায়ে তাদের নাম চিরদিন থাকবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। তাদের প্রতিটি ইনিংস নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে আজীবন।







