দুর্দান্ত এক উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছিল বাংলাদেশ। তবে মাঝের ওভারগুলোতে দ্রুত পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ইয়াসির আলি রাব্বি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ব্যাটিং, বিশেষ করে শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের টানা চার ছক্কায় লড়াকু সংগ্রহ পেয়ে যায় টাইগাররা।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান করেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য ১৮৭ রান।
ইনিংসের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১২০ রান, যা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে পঞ্চম শতরানের ওপেনিং জুটি।
ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছেন সাইফ হাসান। ইনিংসজুড়ে একাধিকবার জীবন পাওয়া এই ওপেনার শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৫৫ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে আরও আক্রমণাত্মক ছিলেন তানজিদ। ৩৩ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর ৪৪ বলে ৫৮ রান করে ফেরেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক।
তবে ১৫তম ওভারে সিকান্দার রাজার বলে সাইফ বোল্ড হওয়ার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। পরের ওভারে রিচার্ড এনগারাভা ফিরিয়ে দেন তানজিদ হাসান ও তাওহিদ হৃদয়কে। এরপর ব্র্যাড ইভান্সের জোড়া আঘাতে পারভেজ হোসেন ইমন ও নুরুল হাসান সোহানও দ্রুত বিদায় নেন। মাত্র ৪১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।
সেই ধাক্কা সামলে শেষদিকে পাল্টা আক্রমণ ইয়াসির আলি রাব্বি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। দুজনে মাত্র ১৯ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।
শেষ ওভারটি ছিল পুরোপুরি সাইফউদ্দিনের। প্রথম চার বলে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ওভারের প্রথম চার বলে টানা চার ছক্কা মারার নজির গড়েন এই অলরাউন্ডার। মাত্র ১০ বলে ৩১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন সাইফ। অন্যদিকে ইয়াসির ১২ বলে ২২ রানের কার্যকর ক্যামিও খেলেন, যেখানে ছিল তিনটি ছক্কা ও একটি চার।
শুরুতে ওপেনারদের দাপট আর শেষদিকে সাইফউদ্দিনের ঝড়ে ভর করে ১৮৬ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর দায়িত্ব বোলারদের।






