দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারল না বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে হার্শিতা সামারাবিক্রমার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে গিয়ে ৪ উইকেটে হেরেছে নিগার সুলতানার দল। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১১৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। একপর্যায়ে ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছিল তারা। কিন্তু হার্শিতার লড়াকু ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টানা সপ্তম হার।
১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই শ্রীলঙ্কাকে ধাক্কা দেন মারুফা আক্তার। চামারি আতাপাত্তুকে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরান তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ইমিশা দুলানিকেও বোল্ড করে বাংলাদেশের শুরুটা আরও শক্ত করেন মারুফা।
পাওয়ার প্লের মধ্যেই তৃতীয় উইকেট তুলে নেন সুলতানা খাতুন। তাঁর বলে বোল্ড হন সানজানা কাভিন্দি। এরপর রিতু মনির বলে ভিশমী গুনারত্নে ক্যাচ দেন। ফাহিমা খাতুনের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন কাভিশা দিলহারি। ফলে মাত্র ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
সেখান থেকে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন নিলাকশি ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা। দুজনের ৩৮ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। মারুফা আক্তার নিলাকশিকে ১৮ রানে বোল্ড করে জুটি ভাঙলেও হার্শিতা একপ্রান্ত আগলে রাখেন।
শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা ৩ উইকেট নিয়েও দলের হার ঠেকাতে পারেননি।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ পায় ভালো শুরু। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে ৪.৫ ওভারে যোগ করেন ৩১ রান। দিলারা ২৬ এবং জুয়াইরিয়া ১৪ রান করে ফেরেন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানাও মাত্র ৪ রান করে আউট হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সোবহানা মুস্তারী দলের ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। স্বর্ণা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। মুস্তারী করেন ৩৪ রান। তবে ১৭তম ওভারে মাত্র এক রানের ব্যবধানে দুজনই ফিরে গেলে আবারও গতি হারায় বাংলাদেশের ইনিংস।
শেষদিকে ফাহিমা খাতুনের পরপর দুই বাউন্ডারিতে স্কোর কিছুটা বাড়ে। শেষ ওভারের শেষ দুই বলে অবশ্য ফাহিমা ও মারুফা আক্তার আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১১৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
এই হারের পর বাংলাদেশের সামনে এখন সমীকরণ কঠিন হলেও পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অবশ্যই হারাতে হবে। জয় পেলেও সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ভারত।
