সিরিয়ার কাছেও হার, এশিয়ান কাপের আশা শেষ বাংলাদেশের

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় হারে বাংলাদেশের যুবাদের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে জেরার্ড জোন্সের দল। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছেও হেরেছিল বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচে দুই হার নিয়ে বাছাইপর্ব থেকে বিদায়ের পথেই রয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। আগামী রোববার ভারতের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

সিরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের মতোই এদিনও মাঝমাঠে বারবার বল হারিয়েছে তারা। আক্রমণে ওঠার সুযোগ এলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে তেমন কোনো চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে সিরিয়া বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজিয়েছে। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশের রক্ষণ তাদের আটকে রাখতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত ৪৪ মিনিটে বেলাল আল-মুসলির গোলে ভাঙে বাংলাদেশের প্রতিরোধ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মারিওস প্রাক্সিতেলেস।

দুই গোল পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। বিরতির পর প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিটে আগের তুলনায় বলের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা বাড়ে এবং আক্রমণেও ওঠে দল। কিন্তু সেখান থেকে গোলের মতো পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।

সময়ের সঙ্গে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সিরিয়া। বাংলাদেশের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি গোলের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। শেষ বাঁশি বাজার আগে তৃতীয় গোলটিও পেয়ে যায় সিরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে তারা।

পরিসংখ্যানেও ম্যাচে সিরিয়ার আধিপত্য স্পষ্ট। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল তারা। বাংলাদেশের গোলমুখে মোট ১৮টি শট নিয়েছে সিরিয়া, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বাংলাদেশ পুরো ম্যাচে শট নিতে পেরেছে মাত্র তিনটি এবং এর একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

সিরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যর্থতার ইতিহাসও আরও দীর্ঘ হলো। এর আগে যুব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সিরিয়ার বিপক্ষে তিনটি করে ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রতিটি ম্যাচেই হারতে হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এবারও সেই ধারার পরিবর্তন হলো না।

OR

Scroll to Top