
ঢাকা, ৩ জুন – আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন এক অধ্যায়ে পদার্পণ করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল এখন ইউরোপে পূর্ণ শক্তিতে অবস্থান করছে। কাঙ্ক্ষিত তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় সান মারিনো সফরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তার আগমনের মধ্য দিয়ে অবশেষে সম্পূর্ণ দলকে একসঙ্গে হাতে পেয়েছেন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। আগামী ৫ জুন সান মারিনো জাতীয় দলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এই উদ্দেশ্যেই বেশ কয়েক দিন ধরে ইউরোপে অবস্থান করছে লাল সবুজের দল।
প্রথমে মূল স্কোয়াড সেখানে পৌঁছালেও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দলে যোগ দেন সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ। সবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে হামজার আগমনে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল বাংলাদেশের শিবির। দীর্ঘ যাত্রার ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য সান মারিনো পৌঁছানোর পর প্রথম দিন খেলোয়াড়দের জন্য পুনরুদ্ধারমূলক অনুশীলনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
এরপর থেকেই শুরু হয়েছে মূল ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিবিড় প্রস্তুতি। দলের নিয়মিত অনুশীলনে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বল নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৌশলগত পরিকল্পনা ও বিভিন্ন ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ কাজ করছেন কোচিং স্টাফরা।
ইউরোপের পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও সফলভাবে মোকাবিলা করছে দল। দুই দিনের ব্যবধানে ভিন্ন আবহাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে খেলোয়াড়দের। একদিন বেশ শীতল আবহাওয়া থাকলেও অন্যদিন তাপমাত্রা বাংলাদেশের মতোই উষ্ণ ছিল। ফলে দ্রুত এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত অনুশীলনে খেলোয়াড়দের মধ্যে লক্ষ্যণীয় আত্মবিশ্বাস ও একাগ্রতা দেখা গেছে। ইউরোপের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার এই সুযোগকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে পুরো দল। প্রধান কোচ থমাস ডুলি প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
তিনি জানান যে কাগজে কলমে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াই হবে ভিন্ন। সান মারিনো নিয়মিত ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার কারণে বেশ অভিজ্ঞ। তাই তাদের ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। বরং নিজেদের সামর্থ্য যাচাই এবং ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জের জন্য এই ম্যাচকে বড় একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তার দীর্ঘ ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা দলের মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এস এম/ ৩ জুন ২০২৬










