ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ১১২ নম্বরে, আর চীন ১৭ নম্বরে। শক্তি, সামর্থের ব্যবধানটা এখানেই স্পষ্ট। তবে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা চীনের সঙ্গে মাঠে চোখে চোখ রেখে লড়ল বাংলাদেশ। এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর এএফসি নারী এশিয়ান কাপে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবার খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম দেখাতেই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী চীন। প্রথম পরীক্ষাতে জিততে না পারলেও সকলের মন জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মেয়েদের ফিটনেস আর গতিময় ফুটবল মুগ্ধ করেছে অনেককে।
মঙ্গলবার সিডনিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই রক্ষণ গোছানো রেখে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। গোলবারের নিচে মিলি আক্তার ছিলেন অনবদ্য। ১১ মিনিটেই দারুণ এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। ১৪ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শট নেন ঋতুপর্ণা চাকমা, যা চীনের গোলরক্ষক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন।
প্রথমার্ধে কয়েকবার গোলের খুব কাছে গিয়েও সফল হতে পারেনি চীন। ২৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে ভিএআরে গোল বাতিল হয়। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে চাপ বাড়িয়ে সফল হয় তারা। ৪৪ মিনিটে দূরপাল্লার শটে জাল খুঁজে পান ওয়াং শুয়াং। এর এক মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন যাং রুই।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোলের লিড নিয়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখে চীন, কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। মিলি আক্তার একাধিকবার নিশ্চিত গোলের হাত থেকে দলকে বাঁচান। রক্ষণে নবিরন, আফঈদারা দারুণ খেলেছেন। বাংলাদেশের দারুণ রক্ষণ সামলানোর সঙ্গে বেশ কয়েকটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি নয়বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীন।
শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশের মেয়েরা চীনের রক্ষণেও চাপ সৃষ্টি করেন। গোল না পেলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে সমীহ আদায় করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।






