দ্বিতীয় টেস্টে ২১৭ রানের বিশাল ব্যবধানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দুটি টেস্ট জিতে আইরিশদের হোয়াইটওয়াশ করল স্বাগতিকর। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯১ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। প্রথম টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে এক ইনিংস ও ৪৭ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-মঞ্চে বাংলাদেশের জাতীয় দল আবারো প্রমাণ করল তাদের ব্যাঘ্র শক্তি। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আজ উদ্দাম আনন্দে ভেসে যাচ্ছে।
সিরিজের শুরু থেকেই বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখিয়েছে। ব্যাটিং, বলিং, ফিল্ডিং সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। কোচ হাসান মাহমুদ ম্যাচের পর বলেছেন, “দল পুরো সিরিজজুড়ে একত্রে কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মানসিকতা দেখিয়েছে। এটি আমাদের জন্য বড় আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের লক্ষ্য আরও উন্নত মান অর্জন।”
আয়ারল্যান্ডও অবশ্য ঞ্চম দিনে ভালোই লড়াই দেখিয়েছিল। কার্টিস ক্যাম্ফার করেছেন ৭১ রান। শেষ পর্যন্ত তাকে আর আউট করতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। আউট হয়েছেন তার সঙ্গে জুটি গড়া ম্যাকব্রাইন ও গেভিন হোয়ে। জিততে হলে গড়তে হতো ইতিহাস। লক্ষ্য অনুযায়ী জেতার সুযোগও ছিল না। এরপরও ২০০-এর বেশি বাকি থাকা রান জিততে চাইলে দেড় সেশনে ব্যাট চালাতে হতো টি-টোয়েন্টি মেজাজে। হাতে ছিল কেবল ২ উইকেট। এমন অবস্থায় গেভিন হোয়েকে নিয়ে গড়েন ৫৪ রানের জুটি। সেই জুটি ভেঙে স্বাগতিক শিবিরে স্বস্তি ফেরান হাসান মুরাদ। ৩৭ রান করে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি দলীয় ২৯১ রানে। পরের বলেই বোল্ড হন ম্যাথু হাম্প্রেস। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ২১৭ রানের জয়।-6922bef8d860d_original_1763886155.webp)
মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে কোনো সফরকারী দল আগে কখনও ১০০ ওভার খেলেনি। কোনো সফরকারী দল চতুর্থ ইনিংসে আগে কখনো ২৫০ রান করতে পারেনি। ‘আগে পারেনি’ বলতে হচ্ছে, কারণ এবার পেরেছে আয়ারল্যান্ড। বীরোচিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে শেষ দিনে বাংলাদেশকে অনেক ভুগিয়ে তবেই হার মেনেছে তারা। আইরিশ প্রতিরোধ ভেঙে জিতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চার উইকেট নিয়ে শেষ দিন শুরু করেও চমকপ্রদ ব্যাটিং পারফরম্যান্সে ৫৯.৩ ওভার ব্যাটিং করেন আইরিশরা।
সম্পর্কিত
এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও একটি মাইলফলক স্থাপন হলো। খেলোয়াড়দের মধ্যে দলগত মনোভাব, প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় তাদের পারফরম্যান্সকে আরও ধারাবাহিক ও দৃঢ় করেছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মানের দিক দিয়ে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে এই জয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছেন। সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দল আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবে। ক্রিকেটমহল আশা করছে, টাইগাররা এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখলে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বকাপে আরও শক্ত অবস্থানে থাকবে।
অ্যায়ারল্যান্ডকে ধবলধোলাই দেয়া ছাড়াও এই সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শততম টেস্ট ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের শতরান। মিরপুর টেস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকের এ ইনিংস তার ২০ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে।







