
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি – ভারতে অনুষ্ঠেয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি অচলাবস্থা কাটেনি। ঢাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধিদলের বৈঠক হলেও বাংলাদেশ তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানাবে আইসিসি।
এর আগে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় বিসিবি। আইসিসির একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি না হওয়ায় সরাসরি আলোচনায় বসে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে সেই আলোচনাতেও সমাধান আসেনি।
গত বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে দুই পক্ষের আলোচনা প্রায় ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অসন্তোষ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এরপরও সমঝোতার চেষ্টা হিসেবে ঢাকায় সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন আইসিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা শঙ্কা এবং মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক। আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতে হুমকির মাত্রা কম থেকে মাঝারি বলা হলেও বিসিবি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এ বিষয়ে বৈঠকে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গও ওঠে।
আইসিসি জানায়, কেবল অনুমান বা কাল্পনিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে না। তবে হুমকির মাত্রা বাড়লে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিসিবি এখনো তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি বা বিসিসিআইয়ের কাছে জমা দেয়নি।
এর আগে আইপিএলের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিলেও বিতর্কের জেরে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই ভারতে বিশ্বকাপ খেলাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি।
সূচি অনুযায়ী, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ গ্রুপপর্বে ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে খেলবে। তবে এসব ম্যাচ নির্ধারিত ভেন্যুতেই হবে কিনা, তা এখন আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
এনএন/ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬








