পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবলে আগের সেই দাপট, জৌলুশ আর নেই—এমন আলোচনা নতুন নয়। এই অবনতির পেছনের কারণ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিও। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তন এবং আধুনিক ফুটবলের ধারা—এই দুই কারণেই সেলেসাওদের জৌলুশ কমেছে।
১৯৯৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ী রোমারিও ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল এখন আর আগের মতো নেই। ১৫–২০ বছর আগে যেভাবে ব্যালন ডি’অরের জন্য লড়াই করার মতো খেলোয়াড় তৈরি হতো, এখন তা হচ্ছে না।’
রোমারিওর মতে, প্রথম বড় কারণ হলো গলির ফুটবলের হারিয়ে যাওয়া। একসময় ব্রাজিলের ফুটবলের মূল শক্তি ছিল রাস্তাঘাট বা ফাভেলায় বেড়ে ওঠা প্রতিভাবান ফুটবলাররা। নিজেও রিও ডি জেনিরোর ফাভেলায় খেলে বড় হয়েছেন। সেখানে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ থেকেই তৈরি হতো সৃজনশীলতা, দক্ষতা। কিন্তু আধুনিক কাঠামোবদ্ধ একাডেমি নির্ভর প্রশিক্ষণে সেই স্বাভাবিক প্রতিভা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে রোমারিও তুলে ধরেন আধুনিক ফুটবলে শারীরিক সক্ষমতার বাড়তি গুরুত্ব। তাঁর মতে, এখনকার ফুটবলে শৈল্পিকতার চেয়ে অ্যাথলেটিক ক্ষমতাকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়। ফলে একক দক্ষতায় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো শিল্পীসুলভ খেলোয়াড় কমে যাচ্ছে ব্রাজিলে।
আসন্ন বিশ্বকাপের দলে নেইমারের থাকা বা না থাকা নিয়ে আলোচনা চলছে অনেকদিন যাবত। রোমারিও নিজে চান নেইমারের মতো খেলোয়াড় বিশ্বকাপ দলে থাকুক। কিন্তু শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়াও ভালোকিছু নয়, স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সেটাও।
রোমারিও বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে আমাদের দলে রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুসের মতো ভালো খেলোয়াড় আছে, আবার জোয়াও পেদ্রো ও এস্তেভাওয়ের মতো তরুণ প্রতিভাও আছে।’






