ফিফার নজিরবিহীন হস্তক্ষেপে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ হয়েছিল তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বোলোগানের। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরোক্ষ রাজনৈতিক চাপে ফিফা এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে যখন বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্ক, ঠিক তখনই মাঠের ফুটবলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। সিয়াটলে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল।
ম্যাচের আগে বেলজিক কোচ রুডি গার্সিয়া ফিফার সিদ্ধান্তকে ‘এপ্রিল ফুল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তবে মাঠের লড়াইয়ে নাটকীয় কিছু ঘটেনি। তারকা খেলোয়াড়দের কয়েকজনকে বেঞ্চে রেখেও প্রত্যাশিতভাবেই দাপট দেখিয়ে জিতেছে বেলজিয়াম। জোড়া গোল করেছেন শার্ল দে কেটেলিয়ার। অন্যদিকে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের ইনজুরি যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিদায়ের পর বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলো ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ট্রাম্পের পরোক্ষ প্রভাব নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে। স্প্যানিশ দৈনিক ‘মার্কা’ তাদের হেডিংয়ে লেখে, ‘এমনকি ট্রাম্পও এটি আটকাতে পারলেন না: কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ও বেলজিয়াম!’
স্পেনের আরেক গণমাধ্যম ‘স্পোর্ত’ লিখেছে, ‘ট্রাম্প যা চেয়েছিলেন তা পাননি, বেলজিয়ামই যাচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালে।’
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘লেঁকিপ’ যুক্তরাষ্ট্রের এই বিদায়কে এক লাইনে খোঁচা দিয়ে লিখেছে, ‘সব আয়োজন কি তবে এই শেষের জন্যই?’ আর্জেন্টিনার বিখ্যাত পত্রিকা ‘ওলে’ শিরোনাম করেছে, ‘পচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্রকে গুঁড়িয়ে দিল বেলজিয়াম।’ আর ঘরের মাঠের হার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য অ্যাথলেটিক হতাশা প্রকাশ করে লিখেছে, ‘শেষ ষোলোর ম্যাচে আনাড়ি পারফরম্যান্সে বেলজিয়ামের কাছে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ মিশন।’
নিষেধাজ্ঞা মওকুফ হওয়া বেলোগানকে নিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্বাগতিকদের। মাঠের বাইরের রাজনীতি যে মাঠের পারফরম্যান্সের বিকল্প হতে পারে না—সিয়াটলে বেলজিয়ামের দাপুটে ফুটবল যেন আরও একবার সেটাই প্রমাণ করল।







