যে গোলটা হতে পারত বিশ্বকাপেরই অন্যতম সেরা গোল, ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঙ্কোয়িস লেটেকজার সেটাই ভিএআরে করে দিয়েছেন বাতিল। মিসরের মোস্তফা জিকো তাই ম্যাচ শেষে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। ফরাসি রেফারিকে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘জালিম’ হিসেবে; সেই সঙ্গে তিলাওয়াত করেছেন পবিত্র কোরআনের আয়াত যার অর্থ হচ্ছে— ‘নিশ্চয়ই আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম পরিকল্পনাকারী।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অসাধারণ গোল করে স্কোরলাইন ২-০ করেছিলেন জিকো। কিন্তু গোলের বিল্ডআপের সময় মারওয়ান আত্তিয়া মিসরের বক্সের সামনে লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করেছেন— এ অজুহাতে ভিএআর দেখে রেফারি বাতিল করে দেন গোলটি। ফলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি মিসরের। মিনিট দশেক পর সেই জিকোই গোল করে স্কোরলাইন ২-০ করে দেন। আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটির বেলায়ও আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে সালাহকেও ফাউল করা হয়েছিল, কিন্তু সেই গোলে কোনো ভিএআর চেক হয়নি। ম্যাচে অন্যায়ভাবে গোলবঞ্চিত হওয়া এবং এত কাছ থেকে হেরে যাওয়ার পর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি, ‘রেফারি পক্ষপাতিত্ব করেছে। নিশ্চয়ই আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম পরিকল্পনাকারী। রেফারি পুরো জাতির প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, কাপটা রুপোর থালায় করে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া হচ্ছে।’ ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষক রব গ্রিন ধারাভাষ্যের সময় বলেছেন, ‘এটা কোনোভাবেই ভিএআরের আওতায় পড়ে না।’
ম্যাচে ডাগআউট থেকে একাধিকবার রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন মিসরের কোচ ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা। কোচ হোসাম হাসানকে কার্ড দেখানো হয়েছে, হলুদ কার্ড দেখেছেন গোলকিপার মোস্তফা শুবির, সহকারী কোচ একজন রীতিমতো তেড়ে যাচ্ছিলেন রেফারির দিকে, যাকে দলের অন্যরা আটকাচ্ছিলেন।
অন্যায়ের শিকার হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও মিসরের বীরত্ব রূপকথা হয়ে থেকে যাবে বিশ্বকাপে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে তারা নামিয়ে এনেছিল মাটিতে, করে ফেলেছিল নতজানু। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে প্রত্যাবর্তন করেছে আর্জেন্টিনা, তাতে খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিতেই হয়, তবে রেফারির দায়টাও কম নয়।
ম্যাচ শেষে গোলকিপার শুবির বেইন স্পোর্টসকে বলেছেন, ছোট ছোট ব্যবধানই গড়ে দিয়েছে হারজিতের পার্থক্য, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম। কেবল ছোটখাটো কিছু ভুলের কারণেই ম্যাচের ফল এমন হয়েছে। আমরা কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে দলগতভাবে খেলি, আর আমাদের লক্ষ্য ছিল জয়ী হওয়া। সামনের টুর্নামেন্টগুলোতে আমরা আমাদের সেরাটা দেব। আমাদের সামনে এখনো ২০২৭ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস রয়েছে।’






