
রাবাত, ১০ জুলাই – মরক্কোকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রেখেছে দিদিয়ের দেশামের ফ্রান্স। তবে এই এক ম্যাচ যেন শুধু সেমিফাইনালের টিকিট দেয়নি, ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ড বুক ওলটপালট করে দিয়েছে। বিশেষ করে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে এমন কিছু রেকর্ড গড়েছেন, যা ফুটবলবিশ্বে আগে কেবল পেলে, রোনালদো কিংবা লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের পাশেই দেখা যেত।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের সেই ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য সব রেকর্ড:
১. মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটের শীর্ষে এমবাপে
চলতি বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ৮। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির গোলও সমান ৮টি। তবে অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর দিক থেকে এমবাপে (৩টি অ্যাসিস্ট) মেসির (১টি অ্যাসিস্ট) চেয়ে এগিয়ে থাকায় এই মুহূর্তে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি পোস্টার বয়।
২. ব্রাজিলিয়ান সেই ঐতিহাসিক ‘ত্রয়ী’ ও ‘জুটি’র রেকর্ড ভাঙল ফ্রান্স
- রোনালদো-রিভালদোর পর প্রথম: একই বিশ্বকাপে কোনো দলের দুই সতীর্থের ৫ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি ২০০২ সালের পর আর দেখা যায়নি। সেবার ব্রাজিলের রোনালদো (৮) ও রিভালদো (৫) এই কীর্তি গড়েছিলেন। এবার এমবাপের ৮ গোল এবং দেম্বেলের ৫ গোলের ওপর ভর করে সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনল ফ্রান্স।
- রোনালদিনহোদের রেকর্ড চূর্ণ: ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বজয়ী ত্রয়ী (রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহো) মিলে মোট ২০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন। এবার ফ্রান্সের আক্রমণভাগের তিন স্তম্ভ এমবাপে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে মিলে ২৩টি গোলে অবদান রেখে ইতিহাস গড়েছেন।
৩. পেলে-মেসির রাজত্বে এমবাপের হানা
- পেলের পরেই মরক্কোর তরুণ: ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন। সর্বকনিষ্ঠের রেকর্ডটি এখনো ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের (১৭ বছর ২৩৯ দিন)।
- নকআউটে মেসির সমান: বিশ্বকাপ ইতিহাসের নকআউট পর্বে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এমবাপের অবদান এখন ১৪টি, যা গত ৬০ বছরে লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
- ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল: বিশ্বকাপে এমবাপের ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ২০টি, যা ফুটবল ইতিহাসে এককভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ওপরে আছেন কেবল লিওনেল মেসি (২১ গোল)।
৪. গোল, অ্যাসিস্ট এবং পেনাল্টি মিসের ‘বিরল’ ত্রিভুজ
বিগত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে গোল করা, অ্যাসিস্ট করা এবং একই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার। যার মধ্যে শেষ তিন দিনেই ঘটল দুটি! একটি মিশরের বিপক্ষে করেছিলেন লিওনেল মেসি, আর অপরটি মরক্কোর বিপক্ষে করলেন এমবাপে। ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফলভাবে মারার পর এই প্রথম পেনাল্টি মিস করলেন এমবাপে। অন্যদিকে, এমবাপের শট রুখে দিয়ে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৪টি পেনাল্টি সেভের রেকর্ড গড়লেন মরক্কোর বাজপাখি ইয়াসিন বুনো।
৫. দলগত রেকব্রেকিং ফরাসি গর্জন
- টানা তিন সেমিফাইনাল: ইতিহাসে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) সেমিফাইনালে ওঠার হ্যাটট্রিক কীর্তি গড়ল ফ্রান্স।
- ১০০-র ক্লাবে এমবাপে: ফ্রান্সের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ১০০-র বেশি গোলে অবদান (৬৪ গোল, ৩৭ অ্যাসিস্ট) রাখার অনন্য মাইলফলক ছুঁয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে।
এনএন/ ১০ জুলাই ২০২৬









