
পোর্ত অ প্রিন্স, ২৬ জুলাই – হাইতির রাজধানী পোর্ত অ প্রিন্সের একটি এতিমখানা থেকে শুরু হয়েছিল তার জীবনের অনিশ্চিত এক যাত্রা। শৈশবের সেই সংগ্রাম আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি স্টিফেন কিকি রামোস।
তাকে ঘিরেই এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকেরা। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই কিকি আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব ১৭ জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। হাইতিতে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবে তাকে একটি আর্জেন্টাইন পরিবার দত্তক নেয়।
এরপর আর্জেন্টিনার পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা আর স্প্যানিশ ভাষা শেখার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা তার জীবন বদলে দেয়। বর্তমানে কিকি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব ভেলেজ সার্সফিল্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলছেন। মূলত মাঠের বাম প্রান্ত থেকে আক্রমণ শুরু করলেও ডান দিকেও তিনি বেশ কার্যকর।
তার গতি ও নিখুঁত ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি বল নিয়ন্ত্রণে পারদর্শিতা তাকে সমসাময়িক ফুটবলারদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। চলতি মৌসুমে ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দলের হয়ে কিকি চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তিনি এ পর্যন্ত ১২টি গোল করেছেন।
বিশেষ করে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করে তিনি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের তত্ত্বাবধানে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব ১৭ জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর নিজের আবেগ প্রকাশ করে কিকি জানিয়েছেন যে আর্জেন্টিনাই তার প্রকৃত দেশ।
এখানেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ ও পরিচয় খুঁজে পেয়েছেন। তার লক্ষ্য হচ্ছে ভেলেজের মূল দলে জায়গা করে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় করা।
ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন সঠিক পথে এগোলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ২১ বছর বয়সেই আর্জেন্টিনা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হতে পারেন তিনি। প্রতিকূলতাকে জয় করে কিকি রামোসের এই এগিয়ে চলা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
এস এম/ ২৬ জুলাই ২০২৬










