
প্যারিস, ২৮ জুলাই – ফুটবল বিশ্বে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ব্যালন ডি’অর। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। স্পেনের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে রদ্রি অন্যতম দাবিদার হলেও চোটের কারণে তিনি অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ক্লাব পর্যায়ে ভালো করলেও বিশ্বকাপে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন এবং লিওনেল মেসির নাম। কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় সাফল্যের অভাব।
ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে কোনো বড় শিরোপা না জিতেও কি ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব? তবে ফুটবল ইতিহাস বলছে এটি অসম্ভব নয়। অতীতে অন্তত তিনজন ফুটবলার কোনো বড় দলীয় ট্রফি ছাড়াই এই সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৯৫ সালে লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি জর্জ উইয়াহ পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান।
কিন্তু সেবার তার দল ইউরোপীয় কোনো শিরোপা জেতেনি। তবুও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভর করে তিনি প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতেন। একইভাবে ২০০০ সালে লুইস ফিগো বার্সেলোনার হয়ে কোনো শিরোপা না জিতেও পর্তুগালের হয়ে ইউরো সেমিফাইনালে খেলার কৃতিত্বে এই পুরস্কার লাভ করেন।
সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণটি ছিল ২০১৩ সালে। সেবার বায়ার্ন মিউনিখ ট্রেবল জিতলেও ব্যালন ডি’অর হাতে তোলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদ ওই বছর বড় কোনো সাফল্য না পেলেও রোনালদোর ব্যক্তিগত ৬৯ গোল তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছিল। চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের পরিসংখ্যানও বেশ শক্তিশালী।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় ২৫ গোল করে তিনি পিচিচি ট্রফি জিতেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। এছাড়া বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটও নিজের করে নিয়েছেন।
যদিও রিয়াল মাদ্রিদ বা ফ্রান্স বড় কোনো ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি, তবে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত রেকর্ড তাকে উইয়াহ বা রোনালদোদের তালিকায় নিয়ে যেতে পারে। ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দেখার জন্য যে ব্যক্তিগত কৃতিত্ব শেষ পর্যন্ত দলীয় ট্রফির অভাব পূরণ করতে পারবে কি না।
এস এম/ ২৮ জুলাই ২০২৬









