
বুয়েনোস আইরেস, ৩০ জুলাই – বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং ফাইনাল ম্যাচ শেষে মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জয়ের পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের দাবি করে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই দ্বীপপুঞ্জ ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এর মালিকানা দাবি করে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরকে রাজনৈতিক বা অ-ক্রীড়াসংক্রান্ত বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যানার প্রদর্শনের এই ঘটনা দুই দেশের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ফকল্যান্ডের ওপর তাদের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের এই আচরণের জন্য এর আগেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল।
২০১৪ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনকে জরিমানা করেছিল ফিফা। বর্তমান অভিযোগপত্রে এএফএর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক স্লোগান, ম্যাচ শুরু করতে বিলম্ব, নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন এবং দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের মতো গুরুতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া স্পেনের কাছে ফাইনাল হারের পর মাঠে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত চলছে। মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা এবং খেলোয়াড় থিয়াগো আলমাদাও ফিফার তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
ফিফা জানিয়েছে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনএন/ ৩০ জুলাই ২০২৬










