অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ, হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট

ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানেই অলআউট করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট।

ফিল্ডিং মনমতো হয়নি বাংলাদেশের। দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজও সেভাবে অবদান রাখতে পারেননি। তবুও দুইশর আগেই অজিদের গুটিয়ে দিয়েছেন টাইগাররা। যার বড় অবদান হাসান মাহমুদের। সম্প্রতি কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসা হাসান আগুন ঝড়ালেন জাতীয় দলের জার্সি গায়েও।

তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অপর দুই পেসার তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেনও। দুজন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার পতন হওয়া দশ উইকেটের দশটিই নিয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এই প্রথম দুইশর আগে অলআউট হলো অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২১৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল অজিরা। সেটাই ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্কোর।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা শুরু থেকেই কাজে লাগান বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের বোলিং ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্স আদায় করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বেশ অস্বস্তিতে ফেলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই হাসানের বলে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল নিরাপদ জায়গায় পড়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান এই বাঁহাতি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ১২তম ওভারে প্রথম সাফল্য আসে হাসানের হাত ধরে।

অফ স্টাম্পের বাইরে করা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ দেন জেক ওয়েদারাল্ড। পেছনে থাকা লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ৩৭ বলে ২৩ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনার। ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

নিজের পরের ওভারেই আরও বড় আঘাত করেন হাসান। গুড লেংথ থেকে ভেতরে ঢোকা বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ৩৯ বলে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন ট্রাভিস হেড। ৫২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আরও বড় ধাক্কা দেন ইবাদত হোসেন। ১৭তম ওভারে তার বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ হাসান তামিম সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। স্মিথ তখন মাত্র ২ রানে ব্যাট করছিলেন।

তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নিজের পরের ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে দেন ইবাদত। অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথের বলে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো ভুল করেননি। ২০ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন লাবুশেন।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়া তখন পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেয়। ক্যামেরন গ্রিন তাসকিন আহমেদের এক ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান। কিন্তু অতিরিক্ত আগ্রাসনের মূল্য দিতে হয় তাকে।

ওভারের শেষ বলে গুড লেংথে তাসকিনের বল অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন গ্রিন। ১৩ বলে ১৩ রান করে ফেরেন তিনি। লাঞ্চে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৭৪ রান।

লাঞ্চের পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। বাংলাদেশের পেসারদের সামলে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন দুজন। ৫৫ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই সেই জুটি ভেঙে দেন ইবাদত।

৩৭তম ওভারের প্রথম বলে অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢুকে আসা ডেলিভারিতে পাঞ্চ করতে যান ক্যারি। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করে। ১৯ রান করে ফিরতে হয় অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে।

এরপর অস্ট্রেলিয়াকে আর দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। তাসকিন আহমেদের বলে ৩৯তম ওভারে বোল্ড হন বেউ ওয়েবস্টার। ১০ বলে ১২ রান করেন তিনি।

ওয়েবস্টারের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও সাজঘরে ফেরায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ পেসার—দুজনের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি।

ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দাপটে প্রথম দুই সেশনে কার্যত ভেঙে পড়েছে স্বাগতিকদের শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডার।

চা বিরতি শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান বাড়ানোর দায়িত্ব ছিল অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথের ওপর। সেটা দ্রুত করতে গিয়েই বেশিদূর এগুতে পারেননি অজি তারকা। হাসান মাহমুদের শর্ট বল হাঁকাতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন। সহজ ক্যাচ নিয়েছেন উইকেটকিপার লিটন দাস। ফেরার আগে ১০৯ বল খেলে ৭টি চার ১টি ছয়ে ৭১ রান করেন স্মিথ।

খানিক বাদে নাথান লায়ানকেও ফিরিয়ে অজিদের গুটিয়ে দেন হাসান। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে তুলে নেন ৬ উইকেটে। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার এটি।

OR

Scroll to Top