ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনে একাধিকবার জীবন পেয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। একবার ইবাদত হোসেনের বলে আউট হলেও প্রযুক্তির কারণে তখন উইকেট পায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচশেষে স্মিথ নিজেই দিলেন তেমন ইঙ্গিত।
ইনিংসের ২১তম ওভার। ইবাদত হোসেনের একটি ডেলিভারি স্মিথের ব্যাটের পাশ দিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ। তবে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা তাতে সাড়া দেননি।
বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তটি নিয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল সফরকারীরা যে, স্মিথও তখন ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায়, আলট্রাএজে ব্যাটের কাছাকাছি যাওয়ার সময় কোনো স্পাইক নেই। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
দিন শেষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মিথ নিজেই জানান, তার মনে হয়েছিল বলটি ব্যাটে লেগেছিল। স্মিথ বলেন, ‘আমারও তা-ই মনে হয় (ব্যাটে লেগেছে)। মাঝেমধ্যে এমন হয়।’
ড্রেসিংরুমের পথে চলে যাওয়ার পর আবার ক্রিজে ফিরতে হওয়া স্মিথ আরও বলেন, ‘হয়তো আমার ব্যাটে লাগেনি, কিন্তু আমি কিছু একটা অনুভব করেছি। যদি আউট দিত, চলে যেতাম। কিন্তু মনে হচ্ছে প্রযুক্তি আমাকে আজ বাঁচিয়ে দিয়েছে।’
তবে প্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া সেই জীবনকে কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে খুব বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি স্মিথ। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। অবশ্য দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একপ্রান্ত আগলে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন স্মিথ।
শুধু প্রযুক্তির সহায়তাই নয়, এর আগে ২ রানেও জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ইবাদত হোসেনের বলে স্লিপে স্মিথের ক্যাচ ফেলেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। পরে আরও একবার তৃতীয় স্লিপে ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান অজি ব্যাটার।
একাধিকবার জীবন পাওয়া স্মিথ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসাই করেছেন। তার মতে, ডারউইনের উইকেটে বাংলাদেশি পেসাররা ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেন।
স্মিথ বলেন, ‘আমার মনে হয় সব বোলারই খুব ভালো বল করেছে। ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। বল একটু সিম করছিল, তারা বেশ ভালো লেংথে বল করেছে ও আমাদের ডিফেন্সকে চাপে ফেলেছে।’
বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন মিলে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন। হাসান একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও ভালো শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।
তবে স্মিথ মনে করছেন, ম্যাচে ফিরতে এখনও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চান তারা।
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটারের ভাষায়, ‘আমি নিশ্চিত বোলাররা তাদের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আশা করি, আমরা শুরুতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের ফিরিয়ে আনতে পারব।’
