এএফসি অভিষেকে হতাশা, ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ৪-০ গোলে হার রাজশাহী স্টারস

এএফসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের অভিষেকটা হলো হতাশার। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ইস্ট বেঙ্গলের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারস।

সোমবার মালয়েশিয়ার লিকাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোলাম রব্বানী ছোটনের দলকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ভারতের ইস্ট বেঙ্গল। জাতীয় দলের একঝাঁক খেলোয়াড় নিয়ে গড়া রাজশাহী স্টারসের কাছে প্রত্যাশিত লড়াইটা দেখা যায়নি।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইস্ট বেঙ্গলের হাতে। মাত্র ৯ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে বাংলাদেশি রক্ষণে চাপ বাড়ান ঘানার মিডফিল্ডার অলিভিয়া আনোকি। ২৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আস্তাম ওরাওন। মাঝমাঠ থেকে আসা বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন শাহেদা আক্তার রিপা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করেন ইস্ট বেঙ্গলের এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ইস্ট বেঙ্গল। ৩৭ মিনিটে আবারও গোল করেন অলিভিয়া। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে রাজশাহী স্টারসের নেপালি খেলোয়াড় বিমলার ক্লিয়ারেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। বিরতিতে ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশের দল।

দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণ সামলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে রাজশাহী স্টারস। আগের তুলনায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ কিছুটা সামাল দিতে পারলেও নিজেদের আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।

শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে আসে ইস্ট বেঙ্গলের চতুর্থ গোল। সৌমিয়া গুগুলোথের নেওয়া শট রুপনা চাকমার হাত ফসকে জালে জড়ালে বড় পরাজয় নিশ্চিত হয় রাজশাহী স্টারসের।

রাজশাহী স্টারসের দলে ছিলেন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আফঈদা খন্দকার, মনিকা চাকমা, শিউলি আজিম ও রুপনা চাকমারা। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অন্তত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু প্রথমার্ধের তিন গোলের ধাক্কায় সেই প্রত্যাশা আর পূরণ হয়নি।

এই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে গেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। চার দলের গ্রুপে কেবল শীর্ষ দলই পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। ইস্ট বেঙ্গলের কাছে বড় হারের পর রাজশাহী স্টারসকে এখন পরের দুই ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

আগামী বৃহস্পতিবার স্বাগতিক সাবাহ এফসির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে রাজশাহী স্টারস। এরপর গ্রুপের অন্য দল গুয়ামের রোভার্স এফসির মুখোমুখি হবে তারা। পরের রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই দুই ম্যাচেই ফল বের করার কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন ছোটনের দলের সামনে।

OR

Scroll to Top