পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত গাইতে ৬ মাস উর্দু শিখলেন ব্রিটিশ গায়িকা লরা রাইট – DesheBideshe



লন্ডন, ২০ আগস্ট – ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন ব্রিটিশ মেজ্জো-সোপ্রানো গায়িকা লরা রাইট। লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সঠিক উচ্চারণে উর্দু গানটি গাওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘ ছয় মাস কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

কেবল পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতই নয়, এর আগে ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করার সময়ও তিনি একইভাবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলা ভাষা রপ্ত করেছিলেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য সুপরিচিত লরা রাইট জানান, যে কোনো দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়াকে তিনি অত্যন্ত সম্মানের বলে মনে করেন। তবে ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত গাওয়া তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এ ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি তাড়াহুড়ো না করে যথেষ্ট প্রস্তুতির সময় নেন।

দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লরা তার দীর্ঘ প্রস্তুতির গল্প শেয়ার করেন। তিনি মনে করেন, একটি দেশের জাতীয় সংগীত কেবল একটি সাধারণ গান নয়, বরং এর সঙ্গে কোটি মানুষের আবেগ ও জাতীয় পরিচয় জড়িয়ে থাকে। ফলে এর শব্দ ও উচ্চারণ নিখুঁত হওয়া অপরিহার্য। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উর্দু উচ্চারণ নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, তবে তার আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এর আগে ইংল্যান্ড বনাম ভারত টেস্ট সিরিজে ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছিলেন লরা। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বাংলা ভাষায় গানটি গাওয়া ছিল তার জীবনের অন্যতম ভীতিদায়ক ও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। সঠিক বাংলা উচ্চারণে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য তিনি শুধু রেকর্ডই শোনেননি, বরং কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সরাসরি তালিম নিয়েছিলেন।

শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত লরার ইতালীয় ও জার্মান ভাষা সম্পর্কে ধারণা থাকলেও জাতীয় সংগীতের খাতিরে তাকে বারবার নতুন ও অপরিচিত ভাষার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর এই কঠোর পরিশ্রমের বড় একটি অংশ সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থেকে যায়। কেবল অন্য দেশের সংস্কৃতি ও আবেগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেই তিনি এই বাড়তি কষ্ট স্বীকার করেন।

লরা রাইটের এই পদক্ষেপ কেবল সংগীতিক চর্চা নয়, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এনএন/ ২০ আগস্ট ২০২৬



OR

Scroll to Top