
বুয়েনোস আইরেস, ২৮ আগস্ট – ফিফার ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত দুর্নীতিকাণ্ডে এবার বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ফুটবলের সম্প্রচার ও বিপণন স্বত্ব পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই ব্যবসায়ী হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস। সম্পর্কে তারা বাবা এবং ছেলে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি আইনি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এই স্বীকারোক্তি দেন তারা। এই চুক্তির ফলে তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণার মামলার বিচার কার্যক্রম আর সামনে এগোবে না। তবে সমঝোতার অংশ হিসেবে তাদের ৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
হুগো ও মারিয়ানো আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ফুল প্লে-এর সহ-মালিক। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ফিফাকে ঘিরে যে ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছিল, সেখানেই তাদের নাম উঠে আসে।
তদন্তে দেখা যায়, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্টের মিডিয়া স্বত্ব পেতে তারা ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলের কর্মকর্তাদের কয়েক কোটি ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠের খেলার ফল পরিবর্তন নয়, বরং বাণিজ্যিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যেই এই লেনদেন হয়েছিল। টেলিভিশন সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন থেকে বিপুল আয়ের জন্য কর্মকর্তাদের সমর্থন আদায় করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
২০১৫ সালের সেই অভিযানের পর থেকে বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জিনকিস বাবা-ছেলে স্থগিত বিচার-সমঝোতা বা ডিপিএ-র মাধ্যমে এই সংকটের সুরাহা করলেন।
৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার বিনিময়ে তারা দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রেহাই পেলেন। এক দশক আগে শুরু হওয়া সেই কেলেঙ্কারির অধ্যায় যে এখনো শেষ হয়নি, এই স্বীকারোক্তি তারই বড় প্রমাণ।
এনএন/ ২৮ আগস্ট ২০২৬



