বিগ ব্যাশে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। গতবার অভিষেক আসরেই হোবার্ট হারিকেন্সের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন। এমন পারফর্ম করা রিশাদকে এবারও দলে ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে রিশাদকে দলে রাখার খবর নিশ্চিত করে হোবার্ট। এক বছরের চুক্তিতে ফিরছেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। তবে বিগ ব্যাশে আসন্ন আসরের পুরোটা নাও খেলতে পারেন রিশাদ। সেই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলা থাকায় রিশাদের পুরো আসর খেলা নিয়ে বড় শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত মৌসুমে বিগ ব্যাশে নিজের প্রথম আসরেই নজর কাড়েন রিশাদ। ১২ ম্যাচে ২০.৮৬ গড়ে ১৫ উইকেট নেন তিনি। তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৭.৮২, সেরা বোলিং ২৬ রানে ৩ উইকেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার পর মৌসুম শেষে হোবার্টের বর্ষসেরা বিগ ব্যাশ খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন বাংলাদেশি লেগস্পিনার।
রিশাদকে ধরে রাখার পেছনে তাঁর নিজের আগ্রহও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন হোবার্টের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সালিয়ান বিমস। তিনি বলেন, ‘রিশাদ আমাদের কাছে পরিষ্কার করে জানিয়েছিল, গত মৌসুমে হোবার্টে তার সময়টা দারুণ কেটেছে এবং সে আবার ফিরতে চায়। বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্ব বহন করেছে। অ্যাডাম জাম্পাকে যুক্ত করায় আমাদের দলের গঠন কিছুটা বদলে গিয়েছিল। কিন্তু রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন খেলোয়াড় যখন হারিকেন্সে ফিরতে এতটা আগ্রহী, তখন তাকে ফিরিয়ে আনার সব সম্ভাবনাই আমরা খতিয়ে দেখতে চেয়েছি।’
রিশাদের গতবারের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বিমস বলেন, ‘গত মৌসুমে সে আমাদের জন্য অসাধারণ ছিল। প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে এসে প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে মৌসুম শেষ করা তার সামর্থ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করে।’
আসন্ন বিগ ব্যাশ শুরু হওয়ার কথা আগামী ১২ ডিসেম্বর। রিশাদ এবং অ্যাডাম জাম্পার মতো দুজন স্পিনার স্কোয়াডে থাকায় কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজানোর সুযোগ বাড়বে বলেও মনে করেন বিমস, ‘এখন আমাদের দলে উচ্চমানের দুজন লেগস্পিনার রয়েছে, যাদের শক্তির জায়গা আলাদা। ফলে কন্ডিশন ও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের সামনে বেশ আকর্ষণীয় কিছু বিকল্প থাকবে। গত গ্রীষ্মে আমরা দেখেছি, মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। দুজনকে একই দলে পাওয়ায় আমাদের কৌশলগত নমনীয়তা অনেক বাড়বে এবং বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
হোবার্ট হারিকেন্সের স্কোয়াড:
মার্কাস বিন, ইয়ান কার্লাইল, নিখিল চৌধুরী, টিম ডেভিড, নাথান এলিস, রিশাদ হোসেন, নিক হবসন, শাই হোপ, বেন ম্যাকডারমট, রাইলি মেরেডিথ, মিচ ওয়েন, উইল প্রেস্টউইজ, বিলি স্ট্যানলেক, টিম ওয়ার্ড, জ্যাক ওয়েদারাল্ড, বিউ ওয়েবস্টার ও অ্যাডাম জাম্পা।





